বুধবার, ২৪ Jun ২০২৬, ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

পেকুয়া আ’লীগের সম্মেলন: তালিকায় যুদ্ধাপরাধীর দেহরক্ষীসহ ১৩০ বিতর্কিত কাউন্সিলর

বিশেষ প্রতিবেদক:

পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিলর হিসেবে বিএনপি-জামায়াতের চিহ্নিত নেতা সহ বির্তকিত ১৩০ জনকে অর্ন্তভূক্তি করার অভিযোগ উঠেছে। যার কারণে কাউন্সিলর হিসেবে নাম থাকা তৃণমূলের  ১৪০ জন তাদের নাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে জেলা আওয়ামীলীগ বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন।

আগামী ২৬ জুলাই এই উপজেলার সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৯ বছর পর এ সম্মেলন হচ্ছে বলে জানান দলীয় নেতারা।

অভিযোগ উঠেছে, পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক টিমের প্রধান ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গোপনে এই কাউন্সিলরের তালিকা চূড়ান্ত করেছে। যাতে দলের অনেক ত্যাগী এবং প্রবীণ
নেতাদের নাম কাউন্সিলরের তালিকায় নেই।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবরে কাউন্সিলরের তালিকা থেকে নাম প্রত্যাহার চেয়ে জমা দেয়া আবেদনে বির্তকিতদের নাম উল্লেখ্য করা হয়েছে। যেখানে রয়েছে পেকুয়ার বহুল আলোচিত যুদ্ধ অপরাধী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মীর কাসিম আলীর দেহরক্ষী হিসেবে পরিচিত শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিমের নাম। যিনি পেকুয়া উপজেলা বিএনপি’র অ্যাপায়ন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন এবং ২০১৬ সালে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে মগনামা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

তালিকায় নাম রয়েছে, বিএনপির যুগ্ন মহাসচিব সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সালাহ উদ্দিনের আপন চাচা বিএনপি নেতা আসাদ উল্লাহ, বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান চৌধুরী, স্বাধীনতা বিরোধী আকতারুজ্জামান চৌধুরী, বিএনপি নেতা মো. আলম মাঝি, আজিজ উদ্দিন চৌধুরী, মেহের আলী, শাহাদাত, মো. শাহজাহান, জয়নাল আলী, আজিজুল হক, মহিউদ্দিন, জামায়াত নেতা করিম উল্লাহ সহ ১৩০ জনের নাম।

আবেদনে বলা হয়, বিএনপি, জামায়াত নেতাদের সাথে কোন দিন আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত নন এমন মানুষের সাথে কাউন্সিলর হিসেবে নাম থাকায় বিব্রত ত্যাগী এবং পরীক্ষিত আওয়ামীলীগের নেতা। যার কারণে কাউন্সিলর থেকে
তাদের নাম প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানান।

প্রত্যাহার করতে চাওয়া আওয়ামীলীগ নেতাদের মধ্যে রয়েছে জেলা সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, এসএম গিয়াস উদ্দিন, জিএম আবুল কাসেম, উন্মে কুলসুম মিনু, পেকুয়ার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এটিএম বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, রাজখালীর চেয়ারম্যান ও উপজেলার সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম
চৌধুরী, উপজেলার সাবেক সহ সভাপতি শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুর রহমান ওয়ারেসী, সাবেক সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক কাজী উল ইনসান, সাবেক ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক নাজিমুদ্দিন, সাবেক সহ সভাপতি সালা উদ্দিন এমএ, মগনামা ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী, উপজেলার সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক খলিলুর রহমান, সাবেক সাংগঠণিক সম্পাদক সৈয়দুল হক, ছাত্রলীগের সাবেক উপজেলা সভাপতি মমতাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক
জাকেরুল ইসলাম, উপজেলা যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক শেখ আহমদসহ ১৪০ জনের নাম।

আবেদনে পরীক্ষিত প্রবীণ অনেক আওয়ামীলীগ নেতাকে কাউন্সিলর না থাকার নিন্দাও জানানো হয়। যাদের নাম বাদ পড়েছে তাদের মধ্যে উপজেলার সাবেক সহ সভাপতি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম, প্রবীণ নেতা মাস্টার আশেক এলাহী, উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, জেলার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম সজীব, প্রবীণ নেতা রমিজ আহমদ, মাগনামার সাবেক সাধারণ সম্পাদক রশিদ আহমদ, উজানটিয়ার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলী আকবর, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা জুবাইদুল্লাহ লিটন, নাছির উদ্দিন বাদশা, বক্কর, বেলাল উদ্দিন মিয়াজী, নাছির সহ অনেকেই রয়েছেন।

জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও পেকুয়া উপজেলার সাবেক আহবায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল পুরো প্রক্রিয়ার জন্য পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠণিক টিমের প্রধান ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিমকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, সাংগঠণিক টিমের প্রধান হিসেবে পেকুয়ার ৬ টি ইউনিয়নের গোপনে কাউন্সিলর তালিকা তৈরী করে গঠণতন্ত্র অমান্য করে সম্মেলন করেছেন রেজাউল। ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থীর বিরোধীতাকারি উপজেলা
ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম শহীদ উল্লাহর ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেমের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বির্তকিত সম্মেলন আয়োজনের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একে একে জেলা আওয়ামীলীগকে লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও তার কোন
কার্যকারিতা দেখা যাচ্ছে না। ফলে কাউন্সিলর হিসেবে বির্তকিতদের সাথে নাম রাখতে রাজী নন ত্যাগী ও পরীক্ষিত ১৪০ কাউন্সিলর।

তিনি জানান, বিষয়টি জেলা আওয়ামীলীগকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারেকেন্দ্রিয় নেতাদেরও অবহিত করা হচ্ছে। নিজকে জেলার সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে রেজাউল করিমের রাজনৈতিক অপকর্মের কাছে তৃর্ণমূলের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এই সাংগঠিক টিম বাতিল করে বির্তকমুক্ত কাউন্সিলর তালিকা তৈরী করে সম্মেলন আয়োজনের দাবি জানান তিনি।

জেলা সদস্য জিএম আবুল কাসেম জানান, কোন প্রকার গঠণতন্ত্র না মেনে একে একে ইউনিয়ন সম্মেলন বির্তকিত করে উপজেলা সম্মেলন বির্তকিত করার মিশনে রয়েছেন রেজাউল করিম। যেখানে বিএনপি-জামায়াত নেতার পাশাপাশি অনেক স্ত্রী, কাজের
লোকদের কাউন্সিলর করেছে। এ কাউন্সিলর তালিকা বাতিল করে স্বচ্ছ তালিকার দাবি জানান তিনি।

পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শহীদুল্লাহ তালিকায় কয়েকজন বিএনপির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি কাউন্সিলর তালিকায় এসেছে বলে স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম গত সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তারপরও তাকে নিয়ে যেহেতু বির্তক আছে,সেহেতু তিনিসহ কয়েকজনকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠণিক টিমের প্রধান ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,‘ কাউন্সিলর তালিকা নিয়ে কেউ অভিযোগ করলে তা জেলা আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে
আলোচনা করে মীমাংষা করার সুযোগ রয়েছে। বড় দল হিসেবে হিসেবে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় যে কেউ সংক্ষুদ্ধ হতে পারে।

জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কাউন্সিলর তালিকায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION